স্বেচ্ছাচার
কখনোই জগতের প্রতিবিম্ব হ’তে পারতাম না;
এ জগৎটা যদি তোমার মতো না-হতো... ...
আমি আজকের এই আমার মতো হ’তে পারতাম না
এ তুমি জানো না অথচ নির্ভুলভাবে বোঝো
তোমাকে গভীরভাবে দেখলেই
বিবর্তনশীল জগৎটা দেখা হ’য়ে যায় ।
আমার ইচ্ছেমতো চললে এ জগৎটা
নিমেষেই চিরস্থায়ী স্বর্গ হ’য়ে যেতো ॥
তবে জেনেছি তোমার মতোই স্বেচ্ছাচারী এ জগৎ
কখনোই চলবে না কোনো প্রতিবিম্বের পরিকল্পনায়;
তাই তো জগৎটাকে তোমার মতো চলতে দিয়ে
প্রতিবিম্বিত আমিও চলি আমার মতো
আর সমগ্র ব্যাপারটা মেনে নিতে পেরে
মহাজগৎনাট্যকর্মী এই আমি চরম আনন্দিত।
অবশেষে তার ইচ্ছেটাও জেনেছি ;
এ জগৎটাকে স্বর্গ বানানোর পরিকল্পনা
বিধাতার ইচ্ছাসমষ্টিতে নেই আপাতত
তাছাড়া পৃথিবীটা স্বর্গ হলে না কি নির্ভুল সন্দেহ
স্বর্গের প্রতি নিমেষেই ঘুচে যেতো মানুষের মোহ !
জেনে বুঝে অনির্দিষ্টকালে ভাবনা ছুড়ে দিয়ে দিয়ে
নিত্য বিধাতাকে খোঁচাই আচ্ছামতো,
এটাই আমার দিব্য খেলা জনপদে প্রকাশিত ।
এ মহাকালের ব্যস্ত বিধাতা
আমার জগতের স্বর্গায়ণ ঠেকানোর প্রক্রিয়ায় রত
এবং আমাকে সামাল দিতেই বিশ্রামহীন বিধাতা
তার স্বচ্ছ ঢালের আড়ালে সদা জাগ্রত ... ... ...
রঙ্গপুর -২৪/০৯/২০০৪
##############
(মানুষের স্বাধীন বিবেকের চাওয়া আর চেষ্টার মাধ্যমে
পৃথিবীটাকে যিনি নরকের মতো বানাচ্ছেন
নিঃসন্দেহে কোনো অক্ষম-শয়তান নন
বরং স্বয়ং বিধাতা, তাই তো সকল দোষ থেকে পবিত্র
এবং যথারীতি মানুষই অপরাধী, -বিবেকের স্বাধীনতার গুণে .. ..)
কেন্দ্রবিন্দুতে আমিত্ব
যাবতীয় সৃষ্টি-ধ্বংস-বিবর্তন
আমাকেই কেন্দ্র ক’রে সবকিছুর আবর্তন
আমাকে আমার এই আজকের অবস্থায়
বর্তমান করানোর জন্যেই সকল আয়োজন
বিস্মৃতিধারী আমি দেখবো আর ভুলে যাবো আর
‘বাহ্ ! কী-ই সুন্দর !’-ব’লে ব’লে অবাক হবো বার বার
-এতটুকুই, -এবং এর বেশি নয়
সকল ঘটনাচিত্র সকল বৃদ্ধি সকল ক্ষয়
আমাকে ঘিরেই মহাজগতের সকল সমন্বয়
আমার কারণেই একই নাটকের পৌনঃপুনিক অভিনয়
নিমেষেই শূন্য নিমেষেই পূর্ণ কানায় কানায়
একই সৌন্দর্য-সুরা কেবলি পাত্র পাল্টায়
ফলের ভিতরে বীজ
বীজ থেকে গাছ থেকে ফল
ফলের ভিতরে বীজ
বীজ থেকে ফল থেকে ফুল থেকে গাছ থেকে মূল
‘বাহ্ ! কী দারুণ সুন্দর !’--নিখুঁত নির্ভুল
বিস্মৃতিময় দর্শক আমি দেখি
‘এই আছে এই নাই’-নাটকের নিত্য হরেক অঙ্গন
কোথাও আবদ্ধ প্রকাশনা কোথাও মুক্ত মঞ্চায়ন
দেখা ঘটনাই যেন প্রথম দেখার মতোই দেখি বার বার
শুধু আমার কারণেই বৈচিত্র্যের বাহার
নিত্য নতুন বর্ণনায় ঘটে সৌন্দর্যের নিত্য-বিবর্তন
শুধু স্থান-কাল-পাত্র পরিবর্তন
স্থির একঘেয়েমিত্ব যেন আমাকে না-ভোগায়
সেই লক্ষ্যেই এতো এতো আয়োজন ... ...
রঙ্গপুর ২৪/০২/২০০৪
গতিপথ
চলন্ত পথের ঝাঁকুনিতে যেটুকু নড়াচড়া তার বেশি নয়
নিজের অবস্থান থেকে একটুও যাইনি স’রে
তুমি ছিলে বহুদূরে
ডেকেছিলে
হেঁটে যেতে পারতাম কিন্তু হাঁটিনি
তবুও পৌঁছে গ্যাছি তোমার কাছে
কীভাবে এলাম এখনো জানতে চাও !
যেমন মাঝে মাঝে থেমে থেমে
বার বার জানতে চেয়েছো আগেও
আমি তো জানি এ তোমার জেনেও না-জানার ভান
যে পথটার গতিতেই তুমি চ’লে এসেছো
অনড় তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে দূর প্রান্তে
নিঃসন্দেহে তুমি ঐ চলমান পথটাকে জানো
আমার পায়ের তলা ছুঁয়ে ছুঁয়ে হেঁটে গ্যাছে
পথটাই হেঁটেছে, --হাঁটিনি আমি
আর তুমি ছিলে আমার সাক্ষাৎকামী ... ... ...
রঙ্গপুর --০৮/০৮/২০০৪
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০০৯
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)